দুই সন্তানকে রাস্তায় রেখে যাওয়া সেই অসহায় পরিবারের পাশে ওসি
Advertisement
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম
অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চরম দারিদ্র্য, অভাব আর অনিশ্চিত জীবনের চাপ। সংসারে তিন সন্তান, স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন। ঘরে খাবার নেই, সন্তানদের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না। এমন অসহায় পরিস্থিতিতে ‘থাকো, টাকা নিয়ে আসি’ বলে দুই কন্যাসন্তানকে রাস্তার পাশে রেখে চলে গিয়েছিলেন মা শাহনাজ বেগম। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে সেই ঘটনার পর মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।
ওসি জাকির হোসেন বলেন, অনুদানের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়। তবে এ মুহূর্তে পরিবারটির প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার আশা পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এই পরিবারটির শুধু একদিনের সাহায্য নয়, তাদের নিয়মিত সহায়তা করা দরকার। সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
শিশু দুটির মা শাহনাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একজন মা ১০ মাস ১০ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। কোনো মা ইচ্ছা করে সন্তানকে ফেলে যান না। অভাব-অনটনের কারণে আমি সেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সন্তানদের কষ্ট ও ক্ষুধা সহ্য করতে পারিনি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি সবার কাছে সহযোগিতা চাই, যেন আমার সন্তানদের মানুষ করতে পারি।
শিশু দুটির নানি আরজিনা বেগম বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম সুখে থাকবে ভেবে। পরে দেখি জামাই মাদকাসক্ত। টাকার জন্য প্রায়ই মেয়েকে মারধর করত। আমিও গরিব মানুষ। নিজের দুই বেলা খাবারের জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে মেয়ে ও তিন নাতি-নাতনিকে কীভাবে খাওয়াব?
এর আগে ১৯ জুলাই সকালে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা মোড়ে দুই কন্যাশিশুকে রেখে চলে যান তাদের মা। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মা ফিরে না আসায় শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে।
পরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মাগুরা বটতলী গ্রামে তাদের পরিবারের সন্ধান পেয়ে হাকিমপুর থানা পুলিশ শিশু দুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
