ভাঙ্গা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়
অর্থের বিনিময়ে প্রসূতির ডিএনসি করার অভিযোগ
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভাঙ্গা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে ডিএনসি করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ডিএনসি (ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ) করার পর রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগী রোগীর পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরে।
রোগীর পরিবার জানায়, ১৮ জুলাই নগরকান্দার দক্ষিণকান্দী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হিরামনি তার গর্ভের দুই মাসের সন্তানের শারীরিক জটিলতার কারণে গর্ভপাতের জন্য ভাঙ্গা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের কাছে যান। এ সময় প্রসূতির ডিএনসির জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালটির একটি কক্ষে ডিএনসি করেন জাহানারা। ডিএনসি করার তিন দিন পর প্রসূতির অবস্থা খারাপ হওয়ায় পুনরায় তার কাছে গেলে ফের ডিএনসি করতে হবে বলে জানান। এজন্য তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন এবং স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন জাহানারা। প্রসূতির অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে তাকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন তার স্বজনরা। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও জাহানারা রোগীর কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমি হিরামনির কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। তিনি নিজের ইচ্ছাতেই অন্যত্র চলে গেছেন।’ এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী হিরামনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে ডিএনসি করা বা টাকা নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল বলেন, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো সুযোগ নেই।

