ভারতীয় গরু নিয়ে পুলিশের সামনে বিএনপি-জামায়াতের মারামারি
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রৌমারীতে ভারতীয় গরুর নিলাম প্রক্রিয়ায় ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মারামারিতে জড়িয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে উভয় দলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে। এ সময় রৌমারী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এদিকে এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে ১০টি ভারতীয় গরু নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিলাম স্থানে উপস্থিত হয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে লভ্যাংশ ভাগবাটোয়ারা করার চেষ্টা করে।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা ৫০ ভাগ লভ্যাংশ দাবি করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ৩০ ভাগ দিতে রাজি হন; কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে জামায়াত দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র নিলামের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানালে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয় ও মারধর করে।
সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা মাহাবুব আলম নামে ছাত্রশিবিরের সাবেক এক নেতা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে চাইলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় দলের উপজেলা নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় ৩-৪ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত হলে পরে নিলাম সম্পন্ন হয়। যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ টাকায় ১০টি ভারতীয় গরু নিলামে ক্রয় করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, একটি পক্ষ সব সময় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিলাম দিচ্ছে। আমরা এটার বিরোধিতা করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানিয়েছি। এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বেশি হয়; কিন্তু বিএনপির লোকজন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনা আমরা স্থানীয় বিএনপির নেতাদের জানিয়েছি। উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে যেন অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, কয়েকটি গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এ ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। আমাকে জামায়াতের উপজেলা আমির হায়দার ভাই ফোন করেছিলেন। বিষয়টি আমরা বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।
রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকায় বিষয়টি সংঘর্ষের পর্যায়ে যায়নি। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত (বুধবার দুপুর) কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
