ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ট্রলারঘাটে মুগ্ধ পর্যটক
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ট্রলারঘাটে মুগ্ধ পর্যটক
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ট্রলারঘাটটি দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। ঘাটে প্রবেশ করলেই মনে হয়, এটি যেন কোনো আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র। রঙিন আলোকসজ্জা, ফুলের টব, রঙিন সিঁড়ি, পরিচ্ছন্ন বসার জায়গা ও বিশ্রামাগার- সব মিলিয়ে বদলে গেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই ট্রলারঘাটের চেহারা।
সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের পর্যটকেরা মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। পরে সেসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ট্রলারঘাটে যাত্রী ও পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামাগার। রয়েছে পরিচ্ছন্ন ও উন্নতমানের বাথরুম। ঘাটের দুই পাশে বিভিন্ন রঙের বৈদ্যুতিক বাতি ও ফুলের টব রাখা হয়েছে। সিঁড়িগুলোও রাঙানো হয়েছে বিভিন্ন রঙে। সন্ধ্যার পর রঙিন বাতির আলোয় ঘাটের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও এখানে পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায়।
ঘাটটির পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখভালের জন্য রয়েছে ৪-৫ জনের একটি দল। তারা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি দেখভাল করেন। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেই বিষয়েও তারা নজর রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে ট্রলারঘাটটি মূলত যাতায়াতের স্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। সৌন্দর্যবর্ধনের পর এটি এখন পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রঙিন বাতির আলো, ফুলের টব ও সাজানো সিঁড়ি ঘাটটিকে ভিন্ন এক রূপ দেখায়। টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ আশপাশের পর্যটন স্পটে ঘুরতে আসা অনেকেই এখন ট্রলারঘাটে কিছু সময় কাটাচ্ছেন।
ছুটির দিনে বাড়ে পর্যটকের ভিড়
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার ট্রলারঘাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পর্যটকরা কলমাকান্দায় আসেন। কেউ আসেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওড় ঘুরতে, কেউ কলমাকান্দার পাঁচগাঁও এলাকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। আবার কেউ লেংগুরার সাত শহীদের সমাধিস্থল ও রংছাতি ইউনিয়নের পাতলাবনের পাহাড়ি প্রকৃতি দেখতে আসেন।
টাঙ্গুয়ার হাওড়গামী পর্যটকদের বড় একটি অংশ কলমাকান্দা ট্রলারঘাটে এসে কিছু সময় অবস্থান করেন। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ ঘাটের সৌন্দর্যের ছবি তোলেন, আবার কেউ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। এরপর ট্রলারে করে তারা টাঙ্গুয়ার হাওড়ের উদ্দেশে রওনা হন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দা থেকে ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওড় যেতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টা। কলমাকান্দা থেকে বাস বা মাইক্রোবাসে চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ে যেতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। লেংগুরার সাত শহীদের সমাধিস্থলে যেতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ মিনিট। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী সড়ক ধরে পাতলাবনে যেতে আরও প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে।
কলমাকান্দাকে ঘিরে একাধিক পর্যটন স্পট থাকায় ছুটির দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের কাছে ট্রলারঘাটটি এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্রামস্থলে পরিণত হয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওড়গামী পর্যটকদের অনেকেই যাত্রার আগে কিংবা হাওড় থেকে ফিরে এখানে কিছু সময় কাটান।
পর্যটকের চোখে দৃষ্টিনন্দন ঘাট
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে ফিরে ট্রলারঘাটে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিরাজগঞ্জ থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক। এ সময় তাদের মধ্যে মো. সিরাজুল ইসলাম পাবেলের সঙ্গে কথা হয় যুগান্তর প্রতিবেদকের।
সিরাজুল ইসলাম পাবেল বলেন, এত সুন্দর ঘাট আসলে পাওয়া খুবই বিরল। বাথরুম ও বসার জায়গাগুলো একেবারেই পরিষ্কার। বিভিন্ন রঙের লাইট জ্বলছিল। আমরা অনেক ছবি তুলেছি। ট্রলারঘাটে বসে খুবই ভালো লেগেছে। পর্যটকদের জন্য এত সুন্দর ব্যবস্থাপনা করায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আব্দুর রহিম নামের আরেক পর্যটক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে ফেরার পর সাধারণত কোথাও বসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকে না; কিন্তু কলমাকান্দার এই ঘাটে এসে বসার জায়গা, বাথরুমসহ ভালো কিছু সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। রাতে ঘাটের আলোকসজ্জা দেখতে আরও সুন্দর লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কলমাকান্দার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন স্পটগুলোকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওড়, চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, লেংগুরার সাত শহীদের সমাধিস্থল ও সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে সমন্বিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কলমাকান্দা একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, কলমাকান্দায় গেলেই আমি ট্রলারঘাটে যাওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে অবস্থানরত যাত্রী ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলি এবং ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিই। বিশেষ করে যাত্রীদের কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা, বিশ্রামের ব্যবস্থা, বাথরুম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিংবা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা- এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সরাসরি জানার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, আমি চাই, কলমাকান্দায় যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে আসবেন, তারা যেন এখানে এসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং ভালো একটি অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যান। শুধু যাতায়াতের জন্য ট্রলারঘাট নয়, এটিকে পর্যটকদের জন্য একটি সুন্দর ও আরামদায়ক স্থান হিসেবেও গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। পর্যটকেরা যাতে কিছু সময় এখানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান এবং নিরাপদ পরিবেশে টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, কলমাকান্দার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, লেংগুরার সাত শহীদের সমাধিস্থল, পাতলাবনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কলমাকান্দাকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
