|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনা শহরের জয়নগর এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে স্বর্ণা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলা কোয়ার্টারসংলগ্ন এলাকার ওই বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে স্বর্ণার নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে স্বামীর প্রতি অভিমান ও পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা লেখা রয়েছে। চিরকুটের শেষ দিকে তিনি লিখেছেন- ‘আমাকে পোস্টমর্টেম করাইও না। আমাকে সরাপাড়া কবর দিও।’
স্বর্ণা আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণকাটলি এলাকার নাজমুল হাসান নাহিদের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে তিনি জয়নগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি স্বর্ণার সঙ্গে তার স্বামীর মনোমালিন্য চলছিল। শনিবার দিবাগত রাত বা রোববার ভোরের কোনো এক সময় স্বর্ণা তার শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। সকাল ৯টার দিকে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় স্বর্ণার লাশ ঝুলতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতর তল্লাশি করে একটি ডায়েরির পাতায় স্বর্ণার হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে মা-বাবা, ভাই ও স্বজনদের উদ্দেশে ভালোবাসা ও ক্ষমা চাওয়ার কথা রয়েছে। স্বামীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়েও অভিমানের কথা লিখেছেন তিনি।
চিরকুটে স্বর্ণা লিখেছেন- নাজমুল তাকে কখনো কষ্ট দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে তার নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
ওসি বলেন, চিরকুটে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানানো হলেও এটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা। তাই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
