ইংরেজি ও গণিতে ধরাশায়ী যশোর বোর্ড, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ধস
Advertisement
ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হারে যশোর বোর্ড দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলেও পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ধস নেমেছে। দুই বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ বছর বোর্ডে পাশের হার নেমে এসেছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাশের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ।
একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ৯৪১টি। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন।
এ বছর ইংরেজি ও গণিতে পাশের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এ চিত্র উঠে এসেছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যথাযথ নজরদারি, যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে এই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশের হার বা জিপিএ-৫ কিছুটা কমলেও এটিই প্রকৃত ফলাফল। তবে ইংরেজি ও গণিতে পাশের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এ বছর ইংরেজিতে পাশের হার ৭১ দশমিক ৮৪ ভাগ এবং গণিতে ৮৩ দশমিক ৩৪।
যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরের মতো এবারও যশোর বোর্ডে অন্য বিভাগের তুলনায় তাক লাগানো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবছর বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ হাজার ১৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ হাজার ১৭ জন। পাশের হার ৮৬ দশমিক ৮৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ১৩৬ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে মেয়েরা। সর্বোচ্চ এ ফল অজর্নকারীদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২৭ জন ছাত্রী ও ৪ হাজার ৮০৯ জন ছাত্র।
বোর্ডে পাশের হারে বিজ্ঞানের পরেই রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এই বিভাগ থেকে ১৩ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ২৪৬ জন। পাশের হার ৭১ দশমিক ৩৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭১ জন। এদের মধ্যে ছাত্রী ২৩২ ও ছাত্র ১৩৯ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৮০ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৭১ জন। এদের মধ্যে ছাত্রী ৭৯২ জন, ছাত্র ১৭৯ জন।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ বলেন, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা ছিল। ফলে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন হয়েছে। যারা বইমুখী ছিল তারা ভালো ফল করেছে। বাকিরা ঝরে পড়েছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম হোসেন আলী জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যথাযথ নজরদারি, যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে এই ফলাফল অর্জিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পাশের হার কিছুটা কম হলেও এটিই প্রকৃত ফলাফল।
