‘অনেক ভালোবাসি পাখি, আর কথা হবে না’ বার্তা পাঠিয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আফরিন আক্তার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘সানি আমি জানি আমাকে কখনও ক্ষমা করবা না, তাও বলি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিছি... আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর শেষমুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে চাইব... আর কখনও কথা হবে না, দেখা হবে না, অনেক ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি পাখি। বাই। আল্লাহ হাফেজ।’
মোবাইলে প্রেমিককে পরপর ৯টি এমন আবেগঘন খুদে বার্তা পাঠিয়ে আত্মহত্যা করেন আফরিন আক্তার (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মেল্লাবাড়ী মসজিদসংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত আফরিন আক্তার উপজেলার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে এবং পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর থেকে গত ১০ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেবিদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় থাকত সে।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ও বড়শালঘর গ্রামের জামসেদ মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সানির (২৬) সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পেশায় ক্যামেরাম্যান সানির সঙ্গে আফরিনের এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তার মা মরিয়ম বেগম। সানি ক্রমাগত আফরিনকে ডিস্টার্ব করত দাবি করে গত রোববার দুই পরিবার ও বাড়ির মালিককে নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মা মরিয়ম বেগম মেয়েকে একা বাসায় রেখে বাবার বাড়ি চলে যান।
সোমবার সকালে সানি মেসেজের বিষয়টি সৌদি প্রবাসী আফরিনের ভাই আজাদকে জানান এবং বলেন যে তার পরিবার এ বিয়ে মানবে না, ফলে তার বোন আত্মহত্যা করতে পারে। পরবর্তীতে বিদেশের মাটি থেকে ভাই আজাদের ফোন পেয়ে মা মরিয়ম বেগম দুপুরে বাসায় ফেরেন; কিন্তু ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে স্থানীয় ও কারিগরদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আফরিনের নিথর দেহ ঝুলছে।
নিহতের মা মরিয়ম বেগম বলেন, সানি আমার মেয়েকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমার মেয়ের এই অকাল মৃত্যুর জন্য সানিই সম্পূর্ণ দায়ী, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
অন্যদিকে বাড়ির মালিক শাহ আলম খান জানান, ছেলে-মেয়ে উভয়ই বিয়েতে রাজি থাকায় সোমবার দুইপক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই ট্র্যাজেডি ঘটে গেল।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক মনোমালিন্য এবং প্রেমের সম্পর্কের টানাপড়েনে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
