Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু

ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওকে লাঞ্ছিত ও অফিস ভাঙচুর

Icon

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওকে লাঞ্ছিত ও অফিস ভাঙচুর

ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুতে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোবাশ্বির আহমেদ মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অফিস ভাঙচুর ও ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। 

এ সময় পুলিশ সদস্যদের সামনেই ফলাফল স্থগিত না করলে ইউনওকে কুপানোর হুমকি দেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ান তালুকদার। অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক মৌখিকভাবে নিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেন ইউএনও।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পূর্বে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে ইউএনও অফিস ঘেরাও করেন প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী। এ সময় অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন তারা। 

এর আগে মোবাশ্বির আহমেদ মজনুর বরাত দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়ার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান ছাত্রদল নেতা নাঈম ও মতিন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ৪নং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জনাব আলী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমদাদুল ইসলাম বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়াজ উদ্দিন রাসেল প্রমুখ।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ফ্যামিলি শুমারিতে নিয়োগ প্রত্যাশীদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পর বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রধান তার ফেসবুকে ফলাফল প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করেন ছাত্রদলের নেতারা।  

অনেকে লেখেন, বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সালমান জামান লস্কর, ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ শোয়েবকে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বাইরেও যারা মনোনীত হয়েছে তারা অনেকেই ফ্যাসিবাদের দোসর। অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান তারা।

ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, আমি নতুন করে কী বলব, হামলাকারীরা নিজেই ভিডিও করেছেন, সেটি ভাইরালও হয়েছে, সমাজসেবা অফিসার বিস্তারিত জানাবেন, তবে এইটুকু বলে রাখি- হামলা, ভাঙচুর ও নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ- মেধার বাইরে জনবল নিলে ব্যবস্থা নেবেন। সেই দিক বিবেচনায় স্বচ্ছতার নিরিখে আমরা প্রায় ১৬শ জন আবেদনকারীর ৯ জন দক্ষ অফিসারকে প্রধান করে ৯টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছি। মেধাক্রম অনুসারে ১০০ জন চূড়ান্ত এবং ৬০ শতাংশ অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। বাকি ১৪শ আবেদনকারী বাদ পড়েছেন। 

তিনি বলেন, চূড়ান্ত তালিকা খসড়া করে বিএনপির স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের ওয়াকিবহাল করা হয়েছে। তালিকাতে থাকা মামলার আসামি কিংবা অপরাধীদের তারা চিহ্নিত করলে আমরা বাদ দিতে পারতাম। এছাড়াও নিয়োগ নীতিমালায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে, কোনো আসামি কিংবা অপরাধী তালিকায় ঢুকলে সরাসরি বাতিল করা হবে। যারা আন্দোলন করেছেন তারা আমাদেরকে অবগত করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তা না করে নিজ দলীয় সরকারের অন্যতম জনকল্যাণ কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত হয়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .