কণিকা রাণী পাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাবা দর্জি দোকানের কর্মচারী, মা মাটির হাড়ি বানিয়ে বিক্রি করেন। অভাব যার নিত্যসঙ্গী, জরাজীর্ণ মাটির ঘরই যার ঠিকানা, সেই কণিকা রাণী পালের কাছে দারিদ্র্য যেন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
অদম্য মেধাবলে সে এবার জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় ‘জিপিএ-৫’ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
সে প্রমাণ করেছে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। তবে এই অসামান্য সাফল্যের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়। অভাবের কশাঘাতে এখন তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।
কণিকার বাবা গোপাল চন্দ্র পাল শহরের এক দর্জির দোকানে সামান্য বেতনে কাজ করেন। মা মালতি রাণী পাল বাড়িতে মাটির পাত্র তৈরি করে সংসারে বাড়তি জোগান দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভাবের সংসারে দুই বেলা খাবার জোটানোই যেখানে যুদ্ধ, সেখানে মেয়ের কলেজের খরচ চালানো তাদের জন্য অসম্ভব।
শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই কণিকা অত্যন্ত মেধাবী। তার অদম্য আগ্রহ দেখে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক স্কুলের যাবতীয় খরচ মওকুফ করেছিলেন এবং পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক মাসুদুল হক সারা বছর বিনা পারিশ্রমিকে তাকে টিউশনি করিয়েছেন। সবার সহযোগিতায় সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছলেও এখন কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য নেই তার বাবা-মায়ের।
আবেগজড়িত কণ্ঠে মা মালতি রাণী পাল বলেন, মেয়েটা সারাক্ষণ শুধু বই নিয়ে থাকে। অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধের কথা বললে ও কেঁদে বুক ভাসায়। দর্জির কর্মচারীর কাজ আর মাটির পাত্র বেচে সংসার চালাব- নাকি মেয়ের লেখাপড়া করাব?
স্থানীয়রা জানান, অনেক দিন অর্ধাহারে কাটলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কণিকা বিরামহীন। তার এই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। মেধাবী কণিকার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
