গোরস্তানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে একটি গোরস্তানের জায়গা ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে আমগড়া ও পুলিয়া-পানেশ্বরপাড়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বরপাড়ার মধ্যে প্রায় ১৮ কাঠা আয়তনের একটি পুরোনো গোরস্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা গোরস্তানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকান নির্মাণ করে বাজার গড়ে তুলতে চান। এতে আপত্তি জানান পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, গোরস্তানটি ওয়াক্ফ করা সম্পত্তি এবং এটি শুধু কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহারের কথা।
বিরোধ মীমাংসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে বিরোধের মীমাংসা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকালে গোরস্তানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বরপাড়া এলাকায় গেলে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৮০-৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষেরা গোরস্তানটি দেখভাল করে আসছেন। সম্প্রতি গোরস্তানের মাটি কাটাতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের লোকজন গোরস্তানের জায়গায় জোর করে দোকান নির্মাণ করতে চাইছেন। এতে বাধা দেওয়ায় শুক্রবার সকালে তাদের ওপর হামলা করা হয়।
তবে এ বিষয়ে আমগড়া পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
