বারহাট্টায় তিন মাদকসেবীর জামিনে ক্ষোভ, ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
বারহাট্টা থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। বিকালেই তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে উপজেলার মনাষ গ্রামের অন্তু মিয়ার ফিশারিরপাড়ে ইয়াবা সেবনের সময় ফকিরের বাজার এলাকার খুকুমণি, সাদুয়ারকান্দা গ্রামের মুমেন মিয়া এবং কলমাকান্দা উপজেলার হুগলা ইউনিয়নের মো. কবির মিয়াকে আটক করেন স্থানীয়রা।
ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা ময়না মেম্বার বলেন, তারা তিনজনেই বহিরাগত। তারা এলাকার মানসম্মান নষ্ট করছে। এদের মাদক সেবনের আলামত, স্বীকারোক্তিসহ বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর করেছি। এদের কঠিন বিচার দাবি করছি।
স্থানীয়দের দাবি, আটক তিনজনের মাদক সেবনের বিষয়টি তারা ভিডিওতে স্বীকার করেছেন। এমনকি মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেই বিষয়েও তারা তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাদের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
তবে পুলিশ তাদের মাদক আইনে নয়, অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় আদালতে পাঠায়। দুপুরে আদালতে পাঠানোর পর বিকালেই তারা জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
আটক খুকুমণির ভাই আলী হাসান তার বোনের কর্মকাণ্ডের কঠোর শাস্তি দাবি করেছিলেন। তবে জামিনে মুক্তির খবর শুনে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এ মামলার প্রধান আসামি মুমেন মিয়ার নাম্বারে ফোন দিলে তার মা রিসিভ করে জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের অনেক বড় বড় আত্মীয়স্বজন আছে। মাত্র ৪ হাজার ৫শ টাকা থানায় দিয়েছি। এরপর তারা মামলাটি একটু সহজ করে দিয়েছে। সন্ধ্যার আগেই তিনজনকে বের করে নিয়ে এসেছি।
বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দামের সঙ্গে সোমবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকার মানুষ আইন সম্পর্কে এত ধারণা নেই। আসামিরা ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করলেও থানায় এসে বলেছে তারা ভয়ে মাদকের কথা স্বীকার করেছে। তারা মূলত ওই মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য, আলামত, এলাকাবাসীর সাক্ষী ও ভিডিও থাকলেও মাদক আইনে মামলা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
