কুড়িগ্রামে সার লুট
অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, ডিলারকে শোকজ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের ভ‚রুঙ্গামারীতে সার ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে কৃষকদের সার লুটের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
অপরদিকে বিসিআইসির (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) কমিটি সোমবার তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরে গেছে। প্রথম প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্ত ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে।
স্থানীয় তদন্ত প্রতিবেদনে সাধারণ কৃষকদের হয়রানি ও সার বিক্রি না করে দালালদের কাছে সার বিক্রি করা এবং ভাউচারে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিসিআইসির ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল হাজীর প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিসিআইসি থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে জেনারেল ম্যানেজারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শেষে ঢাকায় চলে গেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা তদন্ত কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি, ডিলার ও স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করেন। তিনি কয়েক দফায় ১৩৬০ বস্তা সার বরাদ্দ পান। তারপরও চাষিরা তার কাছে গেলে সার নেই অজুহাতে তাদের ফেরত দেন। ফলে অন্য ইউনিয়নে গিয়ে তাদের বাড়তি মূল্যে সার কিনে আনতে হয়। কৃষকরা বারবার ডিলারের কাছে সারের জন্য ধরনা দিচ্ছিলেন।
ভোর থেকে কৃষকরা ডিলার পয়েন্টে অবস্থান করছিলেন এনআইডি কার্ডসহ। বেলা গড়িয়ে গেলেও বিতরণ শুরু না করায় কৃষকদের সঙ্গে ডিলারের লোকজনের কথাকাটাকাটি হয়। এর মধ্যে কৃষকরা জানতে পারেন গুদামে মাত্র ৩৪০ বস্তা সার আছে। ডিলার পয়েন্টে তখন ৩ থেকে ৪ শতাধিক কৃষক সারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে ডিলার ও কৃষকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
কৃষকদের অনুরোধের পরও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকরা গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত ১২২ সারের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে।
এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ওইদিন রাতেই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার লুটের ঘটনায় ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিলারের বিরুদ্ধে রেজিস্টার, ভাউচারে অসংগতি, অকৃষক ব্যক্তিদের মধ্যে সার বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ রিপোর্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবর পাঠানো হবে।
অপরদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। চাহিদানুযায়ী ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই অগ্রিম সার কেনার প্রয়োজন নেই। কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলেও সার মিলবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি মো. আবদুল আজিম বলেন, কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রোববার রাতে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল জিডি করেছেন। তবে কৃষকদের কোনো ভয় নেই।
