যুগান্তরে প্রতিবেদনের পর ডিসিসহ ৪ জনকে আদালত অবমাননার নোটিশ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক যুগান্তরের ২৬ আগস্টের প্রতিবেদনে ‘কক্সবাজারে বিএনপি-আ.লীগ নেতাদের অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় নকশা বদল: সৈকতের বালিয়াড়ি কেটে সড়ক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ নোটিশ পাঠায়।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এইচআরপিবির পক্ষে নোটিশটি পাঠান। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াড়িতে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমএ মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী, আরডিইসি ভবনের আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের (ইউডিসিজিপি) প্রকল্প পরিচালক এএসএম রাশেদুর রহমান এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকোকে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে।
এর আগে ২০১১ সালের ৭ জুন হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ স্থাপনাও দুই দফায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পূর্বের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এবং জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি কেটে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ স্থাপনা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
যুগান্তরের ওই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নোটিশে বলেন, আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সৈকতের বালিয়াড়িতে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা আদালত অবমাননার শামিল। নোটিশে বলা হয়েছে- নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে। নোটিশটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ই-মেইল ও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্ট পর্যন্ত সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার পৌরসভা। অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সড়কটির প্রস্থ হবে ২৮ মিটার। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবর।
সরেজমিন দেখা যায়, সমুদ্র তীরসংলগ্ন বালিয়াড়ি ভরাট করে প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সড়কের মাটির কাজ এগিয়েছে। কোথাও বালু ফেলে জায়গা উঁচু করা হয়েছে, আবার কোথাও খননযন্ত্র দিয়ে বালুর স্তূপ সমান করা হচ্ছে। এতে সাগরলতা উপড়ে গেছে এবং কোথাও বালুর নিচে চাপা পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন আগেও এলাকায় ১০ থেকে ১২টি বড় বালুর টিবি বা ডেইল ছিল। সেগুলোর অনেকটাই কেটে সমান করা হয়েছে। বালিয়াড়ি উপকূলকে জলোচ্ছ্বাস ও ঢেউয়ের আঘাত থেকে রক্ষায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে সাগরলতা, লাল কাঁকড়া ও বিভিন্ন উপকূলীয় প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
