সহকর্মীকে অফিস সহকারীর বারবার ধর্ষণ, তদন্ত কমিটি
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
হাফিজুর রহমান রুবেল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের অফিস সহায়ক এক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে। বিয়ের কথা বলে ১০ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে ওই অফিস সহায়ক।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
জানা যায়, ২০১০ সালে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান ও অফিস সহায়ক ওই নারী তারিখে কলেজে যোগদান করেন। অফিস সহায়ক নারী সদস্যের স্বামী গত তিন বছর আগে মারা যান।
এদিকে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের স্ত্রীও কাজের সন্ধানে প্রবাসে যান। এ থেকেই অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই নারীর স্বামী না থাকার সুযোগে রাত বেরাতে তার বাসায় আসা যাওয়া করত রুবেল। এমনকি তাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন রুবেল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনেকবার মেলামেশাও হয়। ১০ আগস্ট কলেজ ছুটি হলে মিথ্যা কথা বলে কলেজের একটি কক্ষে নিয়েও ওই নারীকে ধর্ষণ করে হাফিজুর। বিষয়টি কয়েকজন দেখে ফেলায় তাদের দু’জনকে একত্রে রেখে তারা ছবিও তুলে রাখে।
কলেজে এমন ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ অতি গোপনে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুল হক, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক জহিরুল হক আসলাম।
এ ব্যাপারে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল জানান, ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা। তার মাথায় সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারের সামনে কয়েকজনকে নিয়ে শেষ করে দিয়েছে। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ কেন?
তদন্ত কমিটির প্রধান অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশ জানান, উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ দিন আগে অধ্যক্ষ স্যার আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই স্যারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র জানান, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, আমি ময়মনসিংহে আছি। রোববার কলেজে আসেন সরাসরি কথা বলব।
এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম জানান, অফিস সহায়কের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
