আলীকদমের কুরুকপাতা নামে ইউনিয়ন, সেবা বলতে কিছুই নেই
মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বান্দরবান (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় নেই, নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পুরো ইউনিয়নে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটও নেই। স্বাস্থ্যসেবার চিত্রও করুণ। নেই কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নামে ইউনিয়ন, কিন্তু নাগরিক সেবা বলতে তেমন কিছুই নেই। এভাবেই যুগের পর যুগ মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দিন কাটছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নবাসীর।
ডিজিটাল সেবার যুগেও এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে—আর কতদিন পিছিয়ে থাকবে দুর্গম এই ইউনিয়ন।
স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব ভবন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদর আলীকদমে ভাড়া করা একটি কক্ষে পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে উপজেলা সদরে ছুটতে হচ্ছে।
কুরুকপাতা ইউনিয়নে কোনো নিম্ন মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও নেই। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পরই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে।
এই ইউনিয়নে এখনো জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছেনি। ফলে আলো ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ইউনিয়নবাসী সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। তবে পর্যাপ্ত সৌরবিদ্যুৎ সুবিধাও নেই।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধাও কার্যত স্বপ্নের মতো। ফলে সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সেবা গ্রহণ, অনলাইন যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম সংকট। কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্যানিটেশন সেবা থাকলেও দুর্গমতার তুলনায় তা অপ্রতুল। নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফলে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কুরুকপাতা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ১২ হাজার জনসংখ্যার এই কুরুকপাতা ইউনিয়ন স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দুর্গমই রয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় বর্তমানে আলীকদম সদর ইউনিয়ন এলাকায় একটি ভাড়া করা কক্ষ থেকে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গম এই ইউনিয়নে নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ ও স্থায়ী কার্যালয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, আলীকদমের তিন ইউনিয়নেরই নিজস্ব কার্যালয় নেই। কুরুকপাতাসহ তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে আমরা কাজ করছি। মূলত রিজার্ভ ফরেস্ট হওয়ায় বন বিভাগের আপত্তির কারণে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনাপত্তির জন্য চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক—কোনোটিই নেই। আশা করছি, ধাপে ধাপে এসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
