কোক স্টুডিওকে ভাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ বছরের পুরোনো বাড়ি, দুর্নীতির অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি রক্ষা ও দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি শুটিংয়ের জন্য ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কোক স্টুডিওর কাছে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়। শুটিং শেষে অস্থায়ী স্থাপনা খুলে নেওয়ার সময় ভবনটির কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস।
সংবাদ সম্মেলনে শাহেদ কায়েস অভিযোগ করে বলেন, ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি রয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের জন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে চার দিনের জন্য বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়। কাগজপত্রে ভাড়া বাবদ ছয় লাখ টাকা আদায় দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে এর কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ের আগে বড় সরদার বাড়ির রেস্টোরেশন প্রকল্পের পরিচালক স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ ভবনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় শুটিংয়ের জন্য আনা ভারী যন্ত্রপাতি দেখে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ঐতিহাসিক ভবনের স্থাপত্যিক অলংকরণের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে তিনি ভবনটি ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহেদ কায়েস। এর ফলে ঐতিহাসিক ভবনটির কার্নিশের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে, যা দৃশ্যমান বলেও দাবি করেন তিনি। ভবনের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনের অনুষ্ঠানে টেন্ডার ছাড়াই এফ ফাইভ কমিউনিকেশন নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ করা হয়, এফ ফাইভ কমিউনিকেশনের নামে ভুয়া বিল ও চেক তৈরি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফাউন্ডেশনে দুটি এটিএম বুথ নির্মাণে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হলেও তা ৩০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ফাউন্ডেশনের স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে প্রকৃত আনুমানিক ব্যয় পাঁচ লাখ টাকা হলেও প্রায় ১২ লাখ টাকার বিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। পাশাপাশি শ্রমিকদের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ, পরিচালনা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে বেসরকারি ব্যাংকে অর্থ রাখা, সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের নামে অতিরিক্ত বিল তৈরি এবং কারুপল্লির কারুশিল্পীদের কাঁচামাল সংগ্রহের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম ও প্রকৌশলী হানিফ আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ১২টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী ও লেখক রফিউর রাব্বি, কবি রহমান মুজিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা সুজনের সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল এবং কবি মোয়াজ্জেমুল হক।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
