জানা গেল রান্নার সময় গরুর মাংসের রঙ সবুজ হওয়ার কারণ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অবশেষে রান্নার সময় গরুর মাংসের রঙ সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেছে। খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রঙ উজ্জ্বল সবুজ বর্ণ হওয়ার কারণ জানতে তা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠানো হয়।
ল্যাবরেটরির রিপোর্টে দেখা যায়, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ মাংস সংরক্ষণ ও উচ্চ তাপমাত্রা সংমিশ্রণের কারণে এ ঘটনার উৎপত্তি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মণ্ডল ঘটনার পরদিন কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা মাংসের নমুনা পরীক্ষা শেষ করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। যার কপি রোববার পাইকগাছায় কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়।
পরীক্ষামূলক প্রতিবেদনের নমুনায় কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং মাংসে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। এছাড়া বাহ্যিক কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক বা ফরমালিনের কারণে রঙ বদলায়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়।
স্পেকট্রোফটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শের কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলেই মূলত এই সবুজ রঙ ধারণ করেছে।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল জানান, ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসার পর মাংসের রঙ পরিবর্তনের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক কারণ এখন পুরোপুরি স্পষ্ট। ফরমালিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যালের অপপ্রচারের ফলে জনমনে যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, এই বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তার অবসান ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই সকালে পাইকগাছা পৌর বাজারের কসাই ইসমাইল গাজীর দোকান থেকে মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিক করার জন্য প্রায় ৪ কেজি গরুর মাংস কেনেন। দুপুরে রান্না করা হচ্ছিল। মাংস ও মশলা কশানোর পর কড়াইতে মাংস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাংসের টুকরোগুলো গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে। অথচ মশলা ও ঝোলের রং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও অপরিবর্তিত ছিল। এই নজিরবিহীন ঘটনা জানাজানি হলে মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। বেকারির কর্মচারীদের অভিযোগ ছিল কসাই বাসি বা ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রি করেছেন, অন্যদিকে কসাই ইসমাইল গাজীর পালটা দাবি ছিল কর্মচারীরা অসতর্কতাবশত কোনো রাসায়নিক তরল মিশিয়ে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে থানা পুলিশ ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল রান্না করা মাংস এবং বিক্রেতার ফ্রিজে থাকা কাঁচা মাংস জব্দ করেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সংগৃহীত নমুনা পরবর্তীতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।
গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত পরীক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
