প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি অফিস সহকারীর!
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার মদনে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেন দিয়েছেন তিনি। তার হুমকিতে দুদিন ধরে বিদ্যালয়ে যান না প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালালী বাঘমরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরন গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয়ের স্টোর রুমে থাকা আসবাবপত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরেজমিনে যান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিভিন্ন অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হয়।
আসবাবপত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেন অফিস সহকারী হিরণ। পরে তেড়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে যান। এ সময় অন্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষককে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেন। তার এমন হুমকিতে মঙ্গলবার ও বুধবার বিদ্যালয়ে যাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তফা কামাল হিরণ দীর্ঘদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া এলাকার আলোচিত বিচু হত্যা মামলার আসামিও ছিলেন তিনি। তার বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে থাকায় প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছেন।
সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ অন্য শিক্ষকরা বলেন, স্টোর রুমে থাকা স্টিলের দরজা-জানালা, মোটর, পুরাতন কম্পিউটার, স্টিলের বেঞ্চ ও টিনসহ অনেক আসবাবপত্র অফিস সহকারী বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন ঘটনা তিনি আগেও ঘটিয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ের কাউকে তোয়াক্কা করেন না।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার জানান, স্কুলের আসবাবপত্র গোপনে বিক্রির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর অফিস সহকারী হিরণ শিক্ষকদের সামনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
দুদিন যাবত বিদ্যালয়ে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মূলত ভয় পাচ্ছি অফিস সহকারী হিরণকে। তিনি আমাকে যেভাবে হুমকি দিয়েছেন তার ভয়েই আমি স্কুলে যেতে সাহস পাচ্ছি না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম কায়েস জানান, গণমাধ্যম কর্মীরা বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পর অফিস সহকারী হিরণ উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং মারতে আসে। পরে হেড স্যারকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।
নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণ জানান, সাংবাদিকরা স্কুল থেকে চলে যাওয়ার পর হেড স্যার আমাকে আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে দুজনের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু না। আমি স্যারকে মারতে যাইনি।
মাধ্যমিক শিক্ষক অফিসার শফিকুল বারী জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমাকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। স্টোর রুম থেকে খোয়া যাওয়া আসবাবপত্রের বিষয়ে এবং প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ায় ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি থানায় দেওয়া হয়েছে।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম জানান, এখনও অভিযোগটি আমার হাতে পৌঁছেনি। পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
