ডি-নথি প্রশিক্ষণে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ভাতা পাননি কর্মকর্তারা
Advertisement
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি দপ্তরের কাজকে ডিজিটাল ও গতিশীল করতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ডি-নথি ও ওয়েবপোর্টাল বিষয়ক প্রশিক্ষণ’। দুদিনের এ প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তবে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, তারা কোনো প্রশিক্ষণ ভাতা পাননি। এমনকি প্রশিক্ষণের জন্য উত্তোলিত অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশিক্ষণের বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে। একই সঙ্গে দুই দিনের প্রশিক্ষণে খাবার সরবরাহের ধরন নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের দাবি, প্রথম দিন নাস্তা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও দ্বিতীয় দিন শুধু হালকা নাস্তা দিয়ে দুপুরের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়।
আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে প্রশিক্ষণের প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আঠারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম কবীর রূপকের বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধু ‘কাগজে-কলমে’ প্রকল্প সভাপতি। বরাদ্দ, ব্যয়, প্রশিক্ষণার্থী ও খাবার—কোনো বিষয়েই তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি অফিস, শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিআরডিবি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও সমবায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
প্রতিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অফিসপ্রধান এবং ডি-নথির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন স্টাফকে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ নির্ধারিত ছিল ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, দুই দিন প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকার পরও তারা কোনো প্রশিক্ষণ ভাতা পাননি। বরাদ্দের টাকা থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ভাতা রাখা হয়েছিল কি না, তাও তাদের জানানো হয়নি।
তাদের প্রশ্ন—সরকারি হিসাব থেকে যদি আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে? প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা বাবদ কত টাকা বরাদ্দ ছিল এবং বাস্তবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে—তারও কোনো পরিষ্কার হিসাব তারা পাননি।
তবে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য, প্রথম দিন সকালে নাস্তা এবং দুপুরে এক প্যাকেট বিরিয়ানি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিন সকালে হালকা নাস্তা দেওয়া হলেও দুপুরের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়।
এ ছাড়া নির্ধারিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে থাকায় প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে। ফলে প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কতজন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি ও আঠারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জুবের আলম কবীর রূপক বলেন, আমি শুধু কাগজে-কলমে প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কোন দিন কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, প্রশিক্ষণার্থীদের কী খাবার দেওয়া হয়েছে কিংবা কাকে কত টাকা ভাতা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারই ভালো বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে রোববার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি। ভাতা দেওয়া হবে।

