মা-ভাতিজি হত্যার দায় স্বীকার করে ঘাতক ইমনের জবানবন্দি
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক ইমন মিয়া (২৯)। সোমবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে এ স্বীকারোক্তি দেন ইমন।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান। তিনি জানান, জবানবন্দিতে ইমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমন বলেন, ‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।’ আদালতের নির্দেশে রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, পায়ের ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পিয়ারা বেগম বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার বড় ভাইয়ের ৮ মাসের মেয়ে ইসরাত জাহানকেও আছড়ে হত্যা করা হয়।
নিহত পিয়ারা বেগম (৬৫) ঘাতক ইমনের মা ও মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী। অপর নিহত ৮ মাসের ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার সময় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার মেয়েকে কোলে নিয়ে ছুটে এলে ইমন তাকেও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় শিশুটির মাথায়ও আঘাত লাগে এবং সে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে। পরে শিশুটিকে তুলে এনে ইমন আছড়ে হত্যা করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪-৫ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে আঘাত লাগে। ২-৩ বছর আগে তার প্রথমবার অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। গত এক সপ্তাহে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তার পায়ে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার বিকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সে বাড়িতে এলেও পায়ের ব্যথা কমেনি।
সোমবার সকালে পায়ের ব্যথায় অস্থির হয়ে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা বাধা দেন। একপর্যায়ে ইমন মায়ের হাতে দা দিয়ে তাকে হত্যা করতে বলেন। পিয়ারা বেগম ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, তুই সুস্থ হয়ে যাবি।’ এরপর ইমন তার মায়ের হাত থেকে দা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের ইমন মিয়া তার মা এবং ভাতিজিকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেন।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
