নাঙ্গলকোট-মনোহরগঞ্জের দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা ও পাশের মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের লোকজনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দিনভর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নাঙ্গলকোট-মনোহরগঞ্জ সীমান্তবর্তী জামাইর দোকান এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের এক ব্যক্তি হয়রানিমূলক কথা বলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে হাতিমারা গ্রামের লোকজন পিস্তল, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুঁজকরা গ্রামে হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ নামের একটি কারখানার ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকালে ৪০-৫০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এসে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাট চালানো হয়। কারখানায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং কারখানার অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে পুঁজকরা গ্রামের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে হাতিমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন খারাপ কথা বলেন। পরে তারা প্রতিবাদ করলে বৃহস্পতিবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে হাতিমারা গ্রামের ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। তারা লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদ আহমেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রধারীদের পরবর্তীতে শনাক্ত করা হবে।
