শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে
Advertisement
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরে শিশুদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সি এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কনস্টেবল শাকিলের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত এবং ওই শিশুর পরিবারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন ঢাকার জনতা ব্যাংকের লোকাল ব্রাঞ্চের সিনিয়র অফিসার।
শিশুটির বাবা মাহমুদুল জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় দুই শিশু খেলাধুলা করার একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় শিশুর মা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল তার ছেলেকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার অবুঝ শিশুর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ একজন বাবা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
শিশুটির পরিবারের আরও অভিযোগ, আঙুল কাটার ঘটনার পর ওই কনস্টেবল শিশুটির বিরুদ্ধে নাটোর পুলিশ সুপারের কাছে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুলিশ কনস্টেবল শাকিলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আট বছর বয়সি কোনো শিশু ধর্ষণের ঘটনা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয় তার জানা নেই।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। প্রকৃত রহস্য কী, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

