সাজেকে দুই সশস্ত্র গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে শিশু গুলিবিদ্ধ
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকে দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলা বন্দুকযুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার নাম কস্মিকা ত্রিপুরা (৮)। মঙ্গলবার সকালে সাজেক ইউনিয়নের মাচালং এলাকার নোয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এদিন সকাল থেকে ওই এলাকায় আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং জনসংহতির (জেএসএস) সমর্থনপুষ্ট দুই সশস্ত্র গ্রুপের দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রুপ দুটির কারও হতাহতের বিষয়ে খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় গ্রামের পথচারী এক শিশু বাম হতে গুলিবিদ্ধ হয়। শিশু কস্মিকা ওই এলাকার ভুয়োছড়ির নিচে মন্দিরাছড়া গ্রামের উলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে ও মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জুপিথাং ত্রিপুরা বলেন, সকালে দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে চলা গোলাগুলির সময় শিশুটির বাম হাতে গুলি লাগে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মাচালং বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে হাতে বিদ্ধ গুলি বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিকালে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি বিকালে ঘটনাস্থল গেছেন। গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের পক্ষে পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর উদ্দেশে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তারের এই সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলবেন না। একটি ৮ বছরের অবুঝ শিশু নিজ পাড়ায় এভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা পাহাড়ে এই ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
অবিলম্বে গুলিবিদ্ধ শিশু কস্মিকা ত্রিপুরার সুচিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে অবিলম্বে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
