১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়েন আব্বাস
ডিএম দিলু, গুরুদাসপুর (নাটোর)
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়েন আব্বাস
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স ছাড়িয়েছে ১২৩ বছর। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ। হারিয়েছেন চলাফেরার শক্তি, কানে ঠিকমতো শুনতে পান না, কাঁপছে হাত দুটিও; কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই বয়সেও চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্পষ্ট কুরআন তিলাওয়াত করেন প্রবীণ আব্বাস আলী প্রামাণিক।
ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নাতি-নাতনিদের বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে।
অবাস্তব মনে হলেও এমনই এক জীবন্ত বিস্ময়ের দেখা মিলেছে নাটোরের গুরুদাসপুরে। উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক। সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন তিনি। অসুস্থতা কিংবা বয়সের ভার—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়েননি সদাচারী এই মানুষটি।
পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আব্বাস আলী। পাশাপাশি বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করেছেন অনেক মানুষকে। জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে মানুষের সেবায়।
যেখানে আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, সেখানে এই বয়সেও আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি অটুট থাকা সবাইকে বিস্মিত করেছে। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই কষ্ট হয়, সেখানে এখনো পরম মমতায় হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পাতা উল্টে কোনো চশমা ছাড়াই তিলাওয়াত করে চলেন।
শতবর্ষী এই প্রবীণের জীবন কেটেছে অতি সাদামাটাভাবে। কখনো যানবাহনে চড়েননি তিনি, পায়ে হেঁটেই গেছেন গন্তব্যে। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার দিন কাটে একটি ভাঙা ঘরে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন আব্বাস আলী। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আব্বাস প্রামাণিকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন তার জন্য একটি ভালো ঘর ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও কুরআনের আলোয় আলোকিত আব্বাস আলী প্রামাণিক ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি আরও দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকবেন—এমনটাই প্রার্থনা এলাকাবাসীর।
