স্বামীর মৃত্যুর পর ট্রেনের নিচে স্ত্রীর আত্মহনন, পাশাপাশি চিতায় দাহ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার পর রেললাইনে কাটা পড়ে নিত্যবালা বর্মন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি ভোরে বাড়ির পাশের রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর লাশ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের হরেন্দ্র নাথ বর্মন (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মন (৭৫)। হরেন্দ্র নাথ বাড়ির পাশের একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রীও নিয়মিত পূজা করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে হরেন্দ্র নাথ বর্মনের মৃত্যু হয়। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করেন নিত্যবালা। একপর্যায়ে ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
ভোরে রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই স্থান অতিক্রম করার সময় নিত্যবালা ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সকালে স্থানীয়রা রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এরপর সকালে হরেন্দ্র নাথ ও নিত্যবালার লাশ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত হরেন্দ্র নাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বাবা-মায়ের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। বাবার মৃত্যুর পর মা প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছিলেন। এর মধ্যেই ভোররাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনার পর নিত্যবালার লাশ স্বজনরা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তারা দাহ করেন। যেহেতু এটি রেললাইনে কাটা পড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই এ বিষয়ে রেল পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
