কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে অপর গ্রুপের সদস্য নিহত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের এক গ্রুপের ছুরিকাঘাতে মো. হৃদয় (১৬) নামে অপর এক গ্রুপের সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর খুলশী থানাধীন ওয়্যারলেস ৪ নম্বর লেনের শেষ মাথায় তালতলা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত হৃদয় কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। বর্তমানে সে খুলশী থানার ওয়্যারলেস ১ নম্বর রোডের আমিন ভাণ্ডারীর ভাড়া ঘরে থাকত।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. কামরুল (২৫), মো. আসিফ (১৬), মো. জীবন (২০), মো. নয়ন (১৬), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. তামিম (১৬), মো. রবিউল ইসলাম (২০) ও মো. জিহাদ (১৬)। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের ‘৭জি’ গ্রুপের সদস্য।
পুলিশ জানায়, নগরীর ওয়্যারলেস এলাকায় ৫জি ও ৭জি নামক দুইটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে মো. হৃদয় ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করত এবং ৫জি গ্রুপের সদস্য ছিল। পূর্ব বিরোধের জেরেই তাকে ছুরি ও কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ৭জি গ্রুপের সদস্যরা। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পর তাকে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৭জি গ্রুপটির নেতৃত্বে দিচ্ছে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা ও তার ছোট ভাই নগর ছাত্রদল নেতা রকি হোসেন পিচ্চি।
খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হৃদয় হত্যায় জড়িত ৮ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে হৃদয়ের বাম কান কেটে নেওয়া আসিফ এবং পেটে ছুরিকাঘাত করা জীবন রয়েছে। এছাড়া কান কাটতে যে ছুরিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হৃদয় হত্যার ঘটনায় তার চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
