দাওয়াত না পেয়ে মাতবরের অভিমান, টিসি নিল প্রাথমিকের ২৬ শিক্ষার্থী
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হঠাৎ ২৬ শিক্ষার্থী টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র) নিয়েছে। কয়েক দিন ধরে তারা বিদ্যালয়ে আসছিল না। পরে তাদের অভিভাবকরা এসে ছাড়পত্র নিয়ে যান।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনে দাওয়াত না দেওয়ায় কামরুল হাসান নামের স্থানীয় প্রভাবশালী এক মাতব্বর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি অভিভাবকদের ওপর চাপ দিয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়। রোববার পর্যন্ত বিদ্যালয়টি থেকে অন্তত ২৬ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কামরুল হাসান (৪৩) ফরিদপুরের মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের (ফচিক) ইক্ষু উন্নয়ন কর্মকর্তা। তিনি ফরিদপুর শহরে থাকেন। তার বাড়ি সদরপুরের ভাষানচরের নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী গ্রামে। আর ওই বিদ্যালয়টি পাশের চাঁদপুর কোলচুরী গ্রামে অবস্থিত।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ নির্মাণকাজ উদ্বোধনের বিষয়টি জানায়। ফলে অনুষ্ঠানে কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ হন পাশের গ্রামের বাসিন্দা মাতব্বর কামরুল হাসান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ আমাদের জানায়। ফলে আমরা কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিষয়টি আমি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বলেছি; কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। বাধ্য হয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক ও ১০৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। নতুন ভবন উদ্বোধনের আগে নিয়মিত ৬৫ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত; কিন্তু গত ছয় দিন ধরে বিদ্যালয়ে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরদিন সোমবার রাতে কামরুল হাসানের বাড়ির পাশে নুর ইসলামের দোকানে সবাইকে নিয়ে সভা হয়। সেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীদের ওই স্কুল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করার নির্দেশ দেন কামরুল হাসান। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরোধিতা করার সাহস পাননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল হাসান বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ভালো হয় না বলে হয়তো অভিভাবকরা সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন।’
শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র নেওয়ার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ হয়তো শত্রুতা করে এ কথা বলছে। এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘বছরের শেষ সময়ে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে না নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনেক বুঝিয়েছি; কিন্তু তারা শোনেননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ছাড়পত্র দিয়ে শিশুদের অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’
