কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় একদল যুবক, অতঃপর...
Advertisement
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমেছে একদল যুবক। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমেছে একদল যুবক। হাতে খাতা-কলম নিয়ে তাদের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যেতে দেখা গেছে। পাশাপাশি জনসাধারণের থেকে তাদের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করছেন তারা।
৫ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যায়।
কাফনের কাপড় পরে গণস্বাক্ষরের কারণ বিষয়ে কর্মসূচির ডাক দেওয়া মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন যুগান্তরকে জানান, বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহণের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে এবং সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। গত রোববার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। কর্তৃপক্ষের টনক নড়াতেই কাফনের কাপড় পরেই এনসিপির পক্ষে থেকে আমরা একদল যুবক গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। একদিনেই যে পরিমাণ স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তা ধারণার বাহিরে। রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি এবং দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশ সমান। যার নমুনা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সামিল হওয়া।
তিনি বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি রাজিব পরিবহণের রোড পারমিট রয়েছে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল টু ঢাকা মহাসড়কের, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মোটর মালিক-শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করে জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রোডে চলাচল করছে রাজিব বাস।
তুহিন আরও বলেন, বেপরোয়া গতির রাজিব বাসের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন শতাধিক মানুষ। প্রায় প্রতি মাসেই নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে রাজিব নামের দানব পরিবহণটি। বাসের মালিকপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় রাজিব পরিবহণ দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো কিছুতেই তাদের বাসের বেপরোয়া গতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটার পর ওই পরিবহণকে নামমাত্র মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারকে সামান্য কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনরায় তারা বেপরোয়া গতিতে রাস্তায় গাড়ি চালাতে সাহস পাচ্ছেন। অবিলম্বে রাজিব বাসের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষে ইউএনও এবং ডিসি বরাবর লিখিতভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
গণস্বাক্ষর দিতে আসা পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজিব পরিবহণ মুক্তাগাছায় কত মায়ের বুক খালি করেছে তার কোনো হিসেব নেই। এখন রাজিব বাসের লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। রাজিব বাসের বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মুক্তাগাছায় সড়কে জনসাধারণের যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ এবং থানা পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। কর্মসূচির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম। নাগরিক অধিকার হিসেবে দাবি যে কেউ দাবি জানাতে পারেন। তবে তাদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র জানান- বিষয়টি শুনেছি, তবে লিখিতভাবে কোনো কিছুই এখনো জমা পড়েনি। লিখিতভাবে আবেদন পেলে তাদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেপরোয়া গতির রাজিব বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটে।

-6ac3be8e537dd.jpg)