ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে মামলা
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় রাজিব পরিবহণের বাসটির চালককে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চারজনের পরিবারের পক্ষ থেকে মো. মোবারক আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাজিব পরিবহণের ওই বাসের চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বাসের চালককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত রাশিদা বেগমসহ একই পরিবারের চারজনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে মো. মোবারক আলী মামলায় বাদী হয়েছেন। চালকসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে রাজীব পরিবহণের প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। তারা আন্তঃজেলা সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং এসব সড়কে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধের দাবি জানান।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত সাতজনই জামালপুর জেলা সদরের বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন হলেন—সদর উপজেলার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। অপর তিনজন হলেন—একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।
শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সাতজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ শনিবার সকালে পৃথক জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে মা, ভাই-ভাতিজিসহ পরিবারের চারজনের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার বাদী মোবারক আলীসহ স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ তারা। তাদের দাবি, বাস-অটোরিকশা দুটোই বেপরোয়া গতিতে ছিল। অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণেই এই ফাঁকা রাস্তায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অটোরিকশার কেউ বেঁচে নেই।
স্বজনরা দেশের সব সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং এসব নিষিদ্ধ সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ময়মনসিংহের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হন।

-6ac0d49aa082e.jpg)