জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, দেড় ঘণ্টা আটকে শত শত যাত্রী
Advertisement
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী আন্তনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকে ট্রেনটি। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এর আগে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন চালক। পরে সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়। পরে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়। এতে ট্রেনটির যাত্রা ব্যাহত হয়।
ট্রেন আটকে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রা করা অনেক যাত্রী বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
ভুক্তভোগী যাত্রী সেলিম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্ত্রী ও ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা এসি টিকিট কেটেছি, অথচ ট্রেনযাত্রায় প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনো এসি কাজ করে না, আবার কখনো ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথে প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না চলার মতো সমস্যা দেখা যায়। কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন সরিয়ে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছালে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা। তবে এ ঘটনায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
ট্রেনের পরিচালক জহির উদ্দিন জানান, স্টেশনের আউটার এলাকায় ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর চালক সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসেন। আগুন যাতে যাত্রীবাহী বগিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়।

-6ad4f3544c4b0.jpg)