৭৮ লাখ টাকায় নির্মিত স্টেশনে থামে না ট্রেন
Advertisement
খন্দকার আলাউদ্দিন, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢাকা-সিলেট রেলপথের ঐতিহ্যবাহী সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন। প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে থামে না কোনো ট্রেন।
ফলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি বর্তমানে অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। স্টেশনটি কার্যকর না হওয়ায় দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় নবনির্মিত ভবন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাতের আঁধারে স্টেশন চত্বরে মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে স্টেশনটি পুরোদমে চালু করে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঢাকা-সিলেট রেলপথের সাটিয়াজুরী স্টেশনটি দীর্ঘকাল সচল ছিল। পরবর্তীতে লোকবলসহ নানা সংকটে ১৯৯৮ সালে এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় দুই যুগ পর স্টেশনটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা সম্পন্ন হয়।
ভবন নির্মাণ শেষ হলেও স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হয়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, আধুনিক ভবন নির্মাণের পর অন্তত লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি কার্যকর হবে; কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ রুটে চলাচলকারী লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই সাটিয়াজুরী স্টেশনে এখন কোনো ট্রেন থামানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে চালক ও ইঞ্জিন সংকটের মুখে ২০১৯ সালে স্থানীয় ট্রেন ‘সুরমা মেইল’ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই স্টেশনটির সার্বিক কার্যক্রম থমকে আছে। তাদের ভাষ্যমতে, সাটিয়াজুরী মূলত ‘ডি’ শ্রেণির স্টেশন। প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও আলাদা লুপ লাইন না থাকায় বর্তমানে এখানে অন্যান্য ট্রেন থামানোর প্রযুক্তিগত সুযোগ সীমিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত সুরমা মেইল বন্ধ থাকার পর থেকেই এখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াচ্ছে না।
ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান হাবিব জানান, এই রুটে সবশেষ সুরমা মেইল চলত, সেটিও অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই মূলত স্টেশনটি বন্ধ। নতুন করে ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মচারী ও জনবল পদায়ন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী সুজন বলেন, সাটিয়াজুরী স্টেশন পুরোদমে চালু হলে বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ অত্যন্ত স্বল্প খরচে ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে পরিবহণ করা সম্ভব হবে, যা এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনবে।
সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন পর স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। নতুন ঝকঝকে ভবন দেখে মানুষ আনন্দিত হলেও এখন ট্রেন না থামায় চরম হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত ইঞ্জিন সংকট দূর করে এ রুটে লোকাল ট্রেন চালু এবং সাটিয়াজুরী স্টেশনে নিয়মিত যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে তারা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
