জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরীর শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
আফরিন আক্তার। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৩ বছর বয়সি আফরিন আক্তার নামে এক কিশোরীর শরীরে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মামি সোনিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোনিয়া আক্তার ও তার স্বামী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও-কান্দাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার জাকির হোসেন ওই গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা রওশন আরা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রওশন আরার সঙ্গে তার ছোট ভাই জাকির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে জাকিরের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বিভিন্ন সময় রওশন আরার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে রওশন আরা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে যান। এ সময় বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল কিশোরী আফরিন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রওশন আরার ঘরে প্রবেশ করে সোনিয়া আক্তার ঘুমন্ত আফরিনের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
কিশোরীর মা রওশন আরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে তার মেয়েকে দোষারোপ করা হয়েছিল। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোনিয়া তার মেয়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রওশন আরা আরও জানান, মেয়েকে বাড়িতে আনার পর স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি থানায় মামলা করেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কিশোরীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার পর পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করেছে।

-6ae0d0af081ce.jpg)