ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক গ্রেফতার
Advertisement
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার সদর উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৮ বছর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ওই মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করে তার বাবা-মা কাজের কারণে ঢাকায় অবস্থান করতেন। সেখান থেকে মেয়ের পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ পাঠাতেন। কিন্তু গত ৬ মাস থেকে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন মাদ্রাসার পরিচালক হাসান আলী। কিশোরী বিষয়টি তার বাবা-মায়ের কাছে মোবাইলে জানালে তারা কল করে অভিযুক্ত পরিচালক হাসান আলীকে। তখন পরিচালক ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। ভুক্তভোগীর পিতা পরিচালকের কথায় বিশ্বাস করে নিশ্চিন্তে থাকেন। কিন্তু গত ২৮ আগস্ট ফজরের নামাজের পর পরিচালক হাসান আলী মাদ্রাসাসংলগ্ন তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান ওই ছাত্রীকে। তারপর তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, এই কথা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী কৌশলে তার বাবা-মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। ঘটনা শুনে ৩১ আগস্ট কিশোরীর বাবা-মা ঢাকা থেকে ওই মাদ্রাসায় আসেন। তারপর তার মেয়েকে নিয়ে যান বাড়িতে।
পরে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শুনে তার পিতা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসাপরিচালক হাসান আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার খবর পেয়ে ওই পরিচালক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।
এরপর এসআরবি-১৩ এর সদস্যরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাত ১২টার দিকে পলাশবাড়ি উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাসান আলীকে গ্রেফতার করে। পরে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে তাকে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রেফতার হাসান আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

