রায়পুরে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাসহ তিন ছাত্রকে কুপিয়ে জখম, যুবককে গণপিটুনি
Advertisement
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ এএম
অভিযুক্ত সাইফুল প্রকাশ সুজন (২৫)।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিএনপির ওয়ার্ড নেতাসহ তিন ছাত্রকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে সাইফুল প্রকাশ সুজন (২৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসী। অন্য দুই ঘাতক পালিয়ে গেছে। রাত ১০টায় হাজিমারা ফাঁড়ীর পুলিশ ঘটনাস্থাল গিয়ে ওই আহত যুবককে উদ্ধার করে রায়পুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টায় রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাত ১১টায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ওসি
ঘাতকের ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছেন উত্তর চরবংশী ইউপির ৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়েদ উল্লাহ গাজী (৫৫), স্থানীয় মাদরাসা ছাত্র মো. খোরশেদ (২৪), জাহিদ (৩৫) ও মো. রায়হান (২৩)। এদের মধ্য গুরুত্বর জখম এবায়েদ উল্যা গাজি ও মো. জাহিদকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুল প্রকাশ সুজন (৩২) বরিশালের ভোলা সদর থানার শ্যামপুর বেদুয়া গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার ছেলে। তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টায় উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিএনপি নেতা এবায়েদ উল্যা গাজিসহ ছাত্রদলের ৫-৬ জন কর্মী। এ সময় ভোলা থেকে আসা ঘাতক সাইফুল তিনটি ককটেল ফাটিয়ে এবায়েদ উল্যাহ গাজিকে ছুরি দিয়ে পেটে ও পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় বাঁধা দেওয়ায় মাদরাসা ছাত্র খোরশেদ আলম, মো. জাহিদ ও রায়হানকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সাইফুল। পরে স্থানীয় লোকজন সাইফুলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পিলারের সাথে বেধে রাখে। এবায়েদ উল্যা গাজিকে কে বা কারা হত্যা করতে সাইফুলকে পাঠিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাজিমারা ফাঁড়ি পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে রায়পুর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর চরবংশী ইউপির বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ মোবাইল ফোনে জানান, আহত বিএনপি নেতা এবায়েদ উল্যা গাজি আমাদের সাথে চলাফেরা করে। তিনি একই ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্য সচিব শামিম গাজির সাথে এবায়েদ উল্যা গাজির পুর্বশত্রুতা রয়েছে। আজকে এবায়েদ উল্যাহ গাজিকে হত্যা করার জন্য এক লক্ষ টাকায় তিনজন ঘাতককে ভোলা থেকে ভাড়া করে আনা হয়। ঘাতক সাইফুল আটক হলেও অন্য দুইজন পালিয়ে যায়। গনপিটুনির সময় গ্রামবাসীর কাছে ঘাতকের স্বীকারোক্তি রয়েছে। এর আগে দুপুরে ডিবি পুলিশ শামিম গাজিকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, কি নিয়ে, কার সাথে ঘটনা হয়েছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।

