১ মিনিটে দুই ট্রেনের শতভাগ টিকিট উধাও, ক্ষোভ আশফাক নিপুণের
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
নাট্যকার আশফাক নিপুণ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রেলওয়ের অনলাইনে টিকিট ছাড়ার এক মিনিটের মধ্যেই কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ। টিকিট কালোবাজারি ও অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘কমার্স ফিকশন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন এই নির্মাতা।
নিপুণ লিখেন, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে তার বয়োবৃদ্ধ সেজো মামাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। বয়সের কারণে টানা বসে বাস ভ্রমণ অসম্ভব হওয়ায় রেলযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন তারা। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় ‘ঢাকা-কক্সবাজার’ রুটের টিকিট ছাড়া হবে জেনে সকাল পৌনে আটটা থেকেই মোবাইল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে বসেছিলেন তিনি। কোনো নোটিফিকেশন যেন বিঘ্ন না ঘটায় সেজন্য সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন।
তিনি আরও লিখেন, ‘ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটায় পৌঁছাতেই সার্চ অপশনে ক্লিক করি। চোখের সামনে সারি সারি খালি সিট ভেসে ওঠে। কিন্তু ৮টা বাজতেই টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার পর ৮টা ১ মিনিটে দেখি গোটা দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ! চোখের পলকে একদম সব ফাঁকা!’
একজন নিয়মিত ট্রেনের যাত্রী হিসেবে স্বাভাবিক টিকিট কাটার গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে নির্মাতা প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি টিকিট নির্বাচন, ওটিপি প্রদান, পেমেন্ট গেটওয়ের তথ্য দিয়ে রিকনফার্ম করতেও তো অন্তত সাড়ে ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগে। সবার দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকলেও সব টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ৮টা ৭ মিনিট বাজার কথা। সেখানে এক মিনিটে পুরো দুটি ট্রেনের সব টিকিট কীভাবে শেষ হয়ে যায়? জুল ভার্ন লিখেছিলেন সায়েন্স ফিকশন ‘৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ’, আর আমাদের রেলওয়ে লিখল ‘এক মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব’-এর মতো কমার্স ফিকশন!’
রেলওয়ের শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে দায়ী করে নিপুণ আরও লেখেন, ‘সরকার বদল হলেও এই সিন্ডিকেটের কোনো পরিবর্তন হয় না। কোনো আমলেই সাধারণ মানুষ সহজে টিকিট পায় না। যে সরকারই আসুক না কেন, এই টিকিট চক্রের ক্ষমতা এতটাই প্রবল যে তাদের কাছে কোনো নিয়মনীতি কার্যকর হয় না।’
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কোনো সরকার যদি কেবল বিমানবন্দর আর রেলওয়ের এই দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে, তবে তাদের সর্বকালের সেরা সরকার হিসেবে বিনাবাক্যে মেনে নিতে তিনি প্রস্তুত।
এদিকে ট্রেনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গায়েব হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি-১১) স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। বর্তমানে পিবিআইয়ের এক উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন।
