সালমানের মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ, সিনেমা ঘিরে নতুন জটিলতা
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার যোগসূত্র নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে। ছবিটির মুক্তি ও প্রচার বন্ধের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সালমান।
এবার সেই মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সালমানের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন আদালত।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ প্রযোজকের আবেদনের বিষয়ে সালমানের জবাব চেয়ে এই নোটিশ দেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রযোজক অমিত জানির দাবি, সালমান খানের করা মামলাটি শুনে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ভৌগোলিক এখতিয়ার দিল্লি হাইকোর্টের নেই। তাই অভিনেতার দায়ের করা আবেদন খারিজ করা উচিত।
আদালতে প্রযোজকের আইনজীবী যুক্তি দেন, সালমানের বসবাস মুম্বাইয়ে, আর অমিত জানি থাকেন উত্তর প্রদেশের মিরাটে। তাদের কেউই দিল্লি হাইকোর্টের বিচারিক এলাকার বাসিন্দা নন বা সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। সিনেমাটির টিজার, পোস্টার ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রী দিল্লিতেও প্রকাশিত হয়েছে—শুধু এই কারণে আদালত মামলাটি বিচারের এখতিয়ার পেতে পারে না বলেও যুক্তি দেন তিনি।
এর আগে ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ সিনেমার মুক্তি ও প্রচার বন্ধের আবেদন করেছিলেন সালমান খান। তার অভিযোগ, ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তার নাম, চলাফেরা, কথা বলার ধরন এবং অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর পরিচিত আবহ ব্যবহার করে তাকে চিত্রিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিনেতা।
সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারসংক্রান্ত চারটি মামলার মধ্যে তিনটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে তার দাবি। এমন পরিস্থিতিতে সিনেমাটিতে বিচারপ্রক্রিয়াকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হলে তা তার নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া ছবিটির টিজারে তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের ইঙ্গিত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সালমান। তার মতে, এ ধরনের চিত্রায়ণ তার ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে এবং চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে প্রযোজকের নতুন আবেদনের পর মামলাটি এখন মূলত আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে বিতর্কে গড়িয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে সালমানের জবাব এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মামলাটির পরবর্তী গতিপথ।

