চাঁদপুরে বৃষ্টিতে ধসে পড়ল পাকা সড়ক
Advertisement
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্মাণাধীন পাকা সড়কের পাশে পুকুর। নিয়ম অনুযায়ী গাইডওয়াল করার পর সেই গাইডওয়ালের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি তুলে রাস্তার পাশ ভরাট করেছে ঠিকাদার। ফলাফল ভয়াবহ, কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে পুকুর পাড় দিয়ে করা পাকা রাস্তার বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরদুঃখিয়া গ্রামের।
সড়ক ধসে পড়ার এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা প্রকাশের পর রোববার (১২ জুলাই) ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান।
জানা যায়, ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার রামপুর-সোলাখালী সড়ক থেকে সন্তোষপুর বাউন্ডারি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গাজী বাড়ির সামনের পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থানে সড়কটির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ধসে পড়েছে। চলতি বর্ষায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমেই রাস্তার ধসে পড়া অংশটি পুকুরের দিকে ঝুঁকছে।
এতে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষায় সড়কের বড় একটি অংশ পুকুর পাড়ে তলিয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ও শাহাদাত হোসেনসহ আশপাশের লোকজন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজ যথাযথভাবে না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুকুর পাড়ের গাইডওয়াল যখন করা হয় তখনই তা নির্মাণে ত্রুটি ছিল। আশপাশের লোকজন পুকুরটি গভীর হওয়ায় গাইডওয়াল মজবুত করার দাবি করলেও ওই সময় ঠিকাদার কারো কথা শুনেননি।
এরপর রাস্তা পাকা করণের সময় গাইডওয়ালের মধ্যবর্তী অংশ ভরাটের জন্য রাস্তার কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওই পুকুরের গাইডওয়ালের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা ভরাট করে। ফলে গাইডওয়ালটি আরও দুর্বল হয়ে যায়।
যার ফলে চলতি বর্ষায় বৃষ্টিপাতের কারণে পুকুর পাড়ে বড় ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে সড়কটির একটি বড় অংশ পুকুরে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ। মাত্র কয়েক মাস আগে নির্মাণ করা সড়কটি রক্ষার দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, এভাবে নির্মাণ কাজে অনিয়ম করে সরকারি অর্থের অপব্যবহার মোটেই কাম্য নয়।
এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রদানের জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গাইডওয়াল নির্মাণ যথাযথ হয়নি। তাছাড়া ভেুক দিয়ে গাউড ওয়ালের পাশ থেকে মাটি তোলা সঠিক হয়নি। কাজটি গত অর্থবছরে সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সড়কটি যথাযথভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত ফেরত দেওয়া হবে না।
