ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর ছক ইসরাইলের?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি অভিযোগ করেছেন যে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে এই পরিকল্পনার ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি চরম লঙ্ঘন। ফিকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সোমালিল্যান্ডের প্রতি দেওয়া কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরাইল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে সোমালিয়ার সরকার ও জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, ইসরাইলের এই স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড তিনটি শর্ত মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, এডেন উপসাগরের উপকূলে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া। যদিও সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে তারা ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকি আরও বলেন, ইসরাইল দীর্ঘকাল ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের এবং বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে তারা উত্তর-পশ্চিম সোমালিয়ার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বেছে নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীতে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং একে তিনি একটি দখলদারিত্ব হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত জাতিসংঘভুক্ত কোনো রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরাইলের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর তুরস্ক, সৌদি আরব এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করেছে। ফিকি এই নিন্দার প্রশংসা করার পাশাপাশি জানিয়েছেন যে ইসরাইলের এই আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ রুখতে সোমালিয়া সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি পথ অবলম্বন করবে।

