Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘ট্রাম্পের ইরান নীতি ইসরাইলের জন্য দুঃস্বপ্ন’

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

‘ট্রাম্পের ইরান নীতি ইসরাইলের জন্য দুঃস্বপ্ন’

লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। 

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু ইস্যু বর্তমান আলোচনার অংশ নয়—এমন বিবৃতির পর এই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই চুক্তির সম্ভাব্য শর্তগুলোকে ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের পরমাণু চুক্তির সাথে তুলনা করে বলেছেন, এটি তেহরানকে বিশ্বজুড়ে ‘সন্ত্রাস ছড়ানোর’ সুযোগ করে দেবে।

সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেট সদস্য এবং সিনেট বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, এই চুক্তির শর্তগুলো ইরান সরকারকে টিকিয়ে রাখবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে, যা শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সক্ষমতা ধরে রাখে এবং পারস্য উপসাগরের তেল অবকাঠামোর ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের হাতেই থাকে, তবে তা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দেবে। সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান সিনেটর টম কটন এবং সিনেট রিপাবলিকানদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও গ্রাহামের এই উদ্বেগকে সমর্থন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর রজার উইকার ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে সম্ভাব্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (ইরান যুদ্ধের মার্কিন কোড নাম) মাধ্যমে অর্জিত সব সাফল্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। 

উইকার এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের দায়ী করে বলেন, তারা প্রেসিডেন্টকে এমন একটি অর্থহীন চুক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন যা স্বাক্ষরের কাগজের মূল্যের সমানও নয়। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও এই সম্ভাব্য চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যে ইরান এখনো আমেরিকার ধ্বংস চাই স্লোগান দেয়, তাদের হাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তুলে দেওয়া, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই চুক্তিকে ট্রাম্পের নীতিমালার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে একে আমেরিকা ফার্স্ট (আমেরিকা প্রথম) নীতির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে ওবামা আমলের কর্মকর্তাদের তৈরি কৌশলের সাথে তুলনা করে বলেন, এটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ছড়াতে অর্থায়নের শামিল। 

পম্পেওর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, ইরানের অর্থপ্রাপ্তির পথ বন্ধ করা এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া যাতে তারা আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য আর হুমকি হতে না পারে।

ইরান নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন নিজের দলের ভেতরেই উভয়মুখী চাপের মুখে পড়েছেন। একদিকে একদল নেতা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে আরেকটি অংশ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে একটি যুদ্ধ ক্ষমতার প্রস্তাব (ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন) ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে রিপাবলিকান নেতারা শেষ মুহূর্তে ভোটগ্রহণ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত করেন। 

হাউসের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট নিশ্চিত জেনেই রিপাবলিকান নেতৃত্ব এই ভোটাভুটি পিছিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজের দলের ভেতরেই ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম