Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের দাবানলে সৃষ্টি বিরল ‘দানব মেঘ’, আগুন নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

ফ্রান্সের দাবানলে সৃষ্টি বিরল ‘দানব মেঘ’, আগুন নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ

দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের ঘটনা নথিভুক্ত হলো।

Advertisement

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল নতুন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। আগুনের তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার কারণে আকাশে সৃষ্টি হয়েছে বিরল ধরনের বজ্রগর্ভ মেঘ, যা বজ্রপাতের মাধ্যমে মূল আগুনের বাইরে নতুন নতুন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফরাসি কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মেঘকে ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বলা হয়। দাবানলের প্রচণ্ড তাপ, ধোঁয়া ও আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে এই বিশাল বজ্রমেঘের সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে মেঘটি নিজেই শক্তিশালী বাতাস, বজ্রপাত এবং অনিশ্চিত আবহাওয়া তৈরি করে। ফলে দাবানল শুধু বিদ্যমান আবহাওয়ার প্রভাবে ছড়ায় না, বরং নিজেই নতুন আবহাওয়ার জন্ম দিয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

ফ্রান্সের জাতীয় অগ্নিনির্বাপক ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের ঘটনা নথিভুক্ত হলো। ইউরোপে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় দাবানলের সময় এ ধরনের মেঘের সৃষ্টি হয়েছিল।

গত ২২ জুলাই ফ্রান্সের সাওমোস এলাকার কাছে দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার বন ও ঝোপঝাড় পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে ২৪০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে গিরন্দ অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, দাবানলের তীব্র তাপে ধোঁয়া ও আর্দ্রতাযুক্ত গরম বাতাস দ্রুত ওপরের দিকে উঠে বিশাল বজ্রমেঘে পরিণত হয়। মেঘের ভেতরে বরফকণার সংঘর্ষে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এসব বজ্রপাত মূল আগুনের বাইরে নতুন এলাকায় দাবানলের সূচনা করতে পারে।

এ ছাড়া এই মেঘ থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী ও দিক পরিবর্তনকারী বাতাস আগুনকে দ্রুত বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে আগুনের ঘূর্ণি বা ‘ফায়ার হোয়ার্ল’ তৈরি হয়, যা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এতে দমকলকর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পথও মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার ঘটনা বাড়ছে। এতে বনাঞ্চল আরও শুষ্ক হয়ে পড়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের ঘটনা এখনও বিরল, তবে উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

সূত্র: এপি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম