দুই ছাত্রীকে মূত্র খাওয়ানোর পর চকলেট খাওয়ার পরামর্শ প্রধান শিক্ষকের, মধ্যপ্রদেশে তীব্র ক্ষোভ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে সেখানে যান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে পান করানোর মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দিলে তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তাদের ‘১০ টাকার চকলেট খেয়ে নেওয়ার’ পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পটভূমি ও প্রধান শিক্ষকের অমানবিক আচরণ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার অ্যারন উন্নয়ন ব্লকের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত সোমবার এই ঘটনা ঘটে। পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীর অভিযোগ, তাদেরই এক সহপাঠী (এবং সন্দেহভাজন আরও কয়েকজন) কৌশলে পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে তাদের পান করায়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রীরা তৎক্ষণাৎ প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়। তবে সুবিচার পাওয়ার বদলে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে উপহাসমূলক প্রতিক্রিয়া পায় তারা। তিনি ছাত্রীদের বলেন, খারাপ স্বাদ দূর করার জন্য যেন তারা ১০ টাকার চকলেট কিনে খায়।
অভিভাবকদের বিক্ষোভ ও স্কুলে তালা
পরদিন মঙ্গলবার ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর পরিবারের সদস্য এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসংবেদনশীল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশ
পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত রূপ নিলে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
গুনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার কান্যাল জানান—
‘পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে পান করানোর অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেন। ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার মা-বাবাকে তলব করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই অপকর্মে আরও শিক্ষার্থী জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অ্যারনের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) মঞ্জুষা খাত্রী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত তহসিলদার এবং ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (বিইও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
