জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
সহকর্মীর গুলিতে নিহত সিআইএসএ ‘র চার সদস্য। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা শিবিরে সহকর্মীর গুলিতে চারজন সিআইএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্টও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই ঘটনা ঘটে। দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন—অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার ও মোহাম্মদ রফিক।
তারা চারজনই গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিবেশী হিমাচল প্রদেশের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিআইএসএফের এক হেড কনস্টেবল তর্ক-বিতর্কের পর তার সার্ভিস রাইফেল/একে-৪৭ দিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।
অভিযুক্ত হিসেবে হেড কনস্টেবল আওধেশ সিংয়ের নাম উঠে এসেছে। গুলি চালানোর পর সহকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তার অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, আওধেশ সিংয়ের সঙ্গে সহকর্মী ও কোম্পানি কমান্ডার অঙ্কিত কুমার পান্ডের বিতর্কের বিষয় ছিল তাকে বারবার সন্তানকে প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসতে হওয়া।
তবে কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি, ঠিক কী কারণে বিরোধ শুরু হয়েছিল এবং কীভাবে তা গুলির ঘটনায় রূপ নেয়। অন্য কোনো বিষয়ও এতে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ একই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের হাতে সহকর্মী সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা।
ঘটনার পর সিআইএসএফ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কাঠুয়া জেলা পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনাক্রম জানতেসিআইএসএফ সদর দপ্তর কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশও তদন্ত চালাচ্ছে। সিআইএসএফের মহাপরিচালক পুরো পরিস্থিতি ও তদন্তের ওপর নজর রাখছেন।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি


-6abbe3fe89f66.jpg)