ইসরাইলগামী উড়োজাহাজের সেই সহকারী পাইলটের দ্বিতীয় নাগরিকত্ব নেই
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট, যিনি মাঝ আকাশে ক্যাপ্টেনকে হামলা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনো দ্বিতীয় নাগরিকত্ব নেই। তিনি শুধু ওমানের নাগরিক বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল, ওমানের নাগরিক হয়েও ওই সহকারী পাইলট কীভাবে তেল আবিবগামী ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন। কারণ ইসরাইলের সঙ্গে ওমানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ও সহকারী পাইলটের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই।
এদিকে, ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিমান চলাচল চুক্তিতে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশের নাগরিক হওয়াকে পাইলটদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ইসরাইলের পরিবহণ মন্ত্রণালয় এর আগে জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছিল, ফ্লাইদুবাইয়ের পরিচালনাগত চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলে যাওয়া ফ্লাইটের পাইলটদের এমন দেশের নাগরিক হতে হয়, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
সহকারী পাইলটকে নিয়ে নেতানিয়াহুর দাবি
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই সহকারী পাইলটের মানসিক ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তিনি ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই সহকারী পাইলটের ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়ার’ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইরানের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র ছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি। উড়োজাহাজটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। উড্ডয়নের পর প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে হামলা করেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। বিমান থেকে জরুরি সংকেতও পাঠানো হয়।
আহত ক্যাপ্টেন মাচ্চার শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিকল্প ক্রুরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় দুই পাইলটই আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা বা অন্য কোনো নির্দেশনা ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়নি।
