উড়োজাহাজের ককপিটে কতজন পাইলট থাকেন, কার কী দায়িত্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছেন একই ফ্লাইটের সহকারী পাইলট। আকস্মিক এ ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ১৭৪ যাত্রীকে নিয়ে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক। পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর যাত্রীরা নিরাপদে ইসরাইলে পৌঁছান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরাইলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়াল দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট। দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্বাভাবিকভাবে চলার পর ওমানের আকাশে হঠাৎ উড়োজাহাজটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে।
মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তখনো অধিকাংশ যাত্রী জানতেন না, ককপিটের ভেতরে কী ঘটছে।
ককপিটে ছুরিকাঘাত
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে সহকারী পাইলট ছুরি দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন।
প্রধান পাইলট স্মিথ মছার ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন ক্রু ও যাত্রী সেখানে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেন।
ফ্লাইটের যাত্রী ও পেশায় দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ সিএনএনকে জানান, ককপিটে ঢুকে তারা প্রধান পাইলটকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার ওপর বসে হামলাকারী ছুরিকাঘাত করছিলেন বলে তিনি জানান। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হেডফোনের তার এবং প্লাস্টিকের জিপ-টাই ব্যবহার করে অভিযুক্ত পাইলটের হাত-পা বেঁধে ফেলেন।
উড়োজাহাজে থাকা আরও দুই পাইলট এরপর ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তারা সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটির জরুরি অবতরণ করান। ওই দুই পাইলটের ইসরাইল থেকে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল।
উড়োজাহাজে কতজন পাইলট থাকেন, তাদের দায়িত্ব কী?
সাধারণত যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে দুজন পাইলট থাকেন। প্রধান পাইলট বা ক্যাপ্টেনই ফ্লাইটের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকেন। উড়োজাহাজ পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত দায়িত্ব তার ওপর থাকে।
অন্যদিকে সহকারী পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজ পরিচালনা করেন। নেভিগেশন, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কন্ট্রোল সিস্টেম পর্যবেক্ষণসহ ফ্লাইট পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি সহায়তা করেন। দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রয়োজন অনুযায়ী তিন বা চারজন পাইলটও থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় প্রধান ও সহকারী—দুই পাইলটই আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ককপিটে ছুরি গেল কীভাবে?
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, একজন পাইলট কীভাবে ছুরি নিয়ে ককপিটে প্রবেশের সুযোগ পেলেন।
আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী, পাইলট ও ক্রু সদস্যদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাধারণত মেটাল ডিটেক্টর, এক্স-রে ও অন্যান্য স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক ধারালো অস্ত্র বহনের অনুমতি নেই।
তবে অনেক বিমানবন্দরে পাইলট ও ক্রুদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা চ্যানেল থাকে। পরিচয়পত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের দ্রুত স্ক্রিনিং করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল কি না, তা এখন তদন্তের বিষয়।
বিশেষ করে ইসরাইলগামী ফ্লাইট হওয়ায় প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাই কঠোরভাবে করা হয়। ইসরাইলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকেও দেশটির সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়।
নিরাপত্তাব্যবস্থার নতুন প্রশ্ন
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ককপিটে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে উড়োজাহাজে শক্তিশালী দরজা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে জার্মানউইংসের ৯৫২৫ ফ্লাইট দুর্ঘটনার পর পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের বিষয়টিও আরও গুরুত্ব পায়।
তবে ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিন্ন একটি দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ককপিটের বাইরে থেকে কেউ যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা থাকলেও ককপিটের ভেতরে থাকা কারও কাছ থেকে আসা হুমকি ঠেকানোর ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত।

-6abe58d9892f2.jpg)