কারাগারের ভেতর সুইমিং পুল-টয়োটা গাড়ি, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
কারাগারের মধ্যে অন্তত ১০টি আবাসিক ইউনিট দেখতে পান। এসব ইউনিটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সোফা, ফ্রিজ, খাবার টেবিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সরঞ্জাম ছিল। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি কারাগারে অভিযান চালিয়ে ভিআইপি বন্দিদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, বড় পর্দার টেলিভিশন, সুইমিং পুলসহ বিলাসবহুল আবাসিক ব্যবস্থা পাওয়ার পর পাঁচ কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ওমবাডসম্যানের আকস্মিক পরিদর্শনে সিবিনং ক্লাস আইআইএ কারাগারে এসব অস্বাভাবিক সুবিধার সন্ধান পাওয়া যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর অর্থশালী ও প্রভাবশালী বন্দিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাকার্তার বাইরে অবস্থিত প্রায় চার হেক্টর আয়তনের এই কারাগারটি মাঝারি থেকে উচ্চ নিরাপত্তার একটি কারাগার। গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের এখানে রাখা হয়। তাদের মধ্যে আর্থিক ও অর্থনৈতিক অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিও রয়েছেন।
ওমবাডসম্যানের একটি দল সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে কারাগারটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যায়। এ সময় কারাগারের ভেতরে কাঠের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি এলাকা তাদের নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে কারারক্ষীরা পরিদর্শকদের ওই এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কারাগারের প্রধানের বাসভবনের পেছনে বেড়া দিয়ে ঘেরা ওই এলাকায় ঢুকে কর্মকর্তারা অন্তত ১০টি আবাসিক ইউনিট দেখতে পান। এসব ইউনিটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সোফা, ফ্রিজ, খাবার টেবিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সরঞ্জাম ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা সেখানে টয়োটা আলফার্ড ও টয়োটা ফরচুনারের মতো দামি গাড়িও দেখতে পান। এ ছাড়া ওই কম্পাউন্ডে একটি সুইমিং পুল, জিম এবং নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরও পাওয়া যায়।
তদন্তকারীরা আরও দেখতে পান, কারাগারের কাছের একটি বাঁশঝাড় ও ময়লার স্তূপের মধ্য দিয়ে পেছনের একটি পথ তৈরি করা হয়েছে। এই পথ ব্যবহার করে কারাগারের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা তল্লাশি বা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে লোকজন ওই কম্পাউন্ডে প্রবেশ ও বের হতে পারত।
সংসদীয় শুনানিতে ইন্দোনেশিয়ার ওমবাডসম্যানের সদস্য সিয়াফরিয়াদা রাচমাওয়াতি রাসাহান বলেন, কারা ব্যবস্থার বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধান না করা হলে এই ঘটনা আরও বড় অনিয়মের কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
তিনি বলেন, কিছু বন্দি যে সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ নয় এমন বিশেষ সুবিধা পাচ্ছিলেন, তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই আবাসিক কম্পাউন্ডের ভেতরে বন্দিদের পাওয়া যায়। সেখানে থাকা স্থাপনাগুলোও সাধারণ কারাগারের কক্ষের মতো নয়; বরং বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বিলাসবহুল ভিলার আদলে তৈরি করা হয়েছিল।

-6ac20fc85f817.jpg)
