ইসরাইলে বিমান বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল ফ্লাই দুবাই সহ-পাইলটের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ এএম
অভিযুক্ত সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনকে কুঠার দিয়ে হামলার পর উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। তদন্তকারীদের কাছে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওমানের নাগরিক হামামি ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়েনেট জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে যাওয়ার পথে জর্ডানের আকাশসীমায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন হামামি।
ক্যাপ্টেনকে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল তার। এতে সন্দেহ এড়ানো এবং ইসরায়েলে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো ভবন বা উড়োজাহাজে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দরে হামলা সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন অথবা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে হামামির পরিকল্পনা সফল হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ করেন, জরুরি সংকেত পাঠান এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। পরে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেন। উড়োজাহাজে থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।
আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানান, হামলার কয়েক মিনিট আগে হামামি নামাজ পড়ার কথা বলেছিলেন। এরপর কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামামি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তেল আবিবে কোন বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করে, তা খুঁজে দেখার পর তিনি ফ্লাই দুবাইকে বেছে নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও এক সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন হামামি।
ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেনকে আক্রমণের পর হামামি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। এতে বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নিজ দেশ ওমানে তাকে আগে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল এবং তার উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
২৯ বছর বয়সী হামামি ওমানের নাগরিক। তার বাবা ওমানের এবং মা সিরিয়ার। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সেখানে বসবাস করেছিলেন। অনলাইনে আল-কায়েদার প্রতি সমর্থনসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
