Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

২০২৬-এর ১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী, বলছে ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

২০২৬-এর ১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী, বলছে ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী

সংগৃহীত

Advertisement

১৯৬০ সালে সায়েন্স জার্নাল একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিল। যেখানে দাবি করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সেই দিনটি খুব কাছে চলে এসেছে। সে কারণে এই গবেষণা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। 

৬৬ বছর আগে সায়েন্স জার্নালের সেই গবেষণাপত্রটিতে ভবিষ্যদ্বাণীটি করেছিলেন অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই শিষ্য প্যাট্রিসিয়া এম মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ আমিট। তাদের ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্য খুব বেশি অবাস্তব নয়। 

তাদের দাবি ছিল, বৈশ্বিক জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে প্রতি ক্ষণে। সে কারণে ২১ শতকের মাঝপথে তা এমন এক সংখ্যায় গিয়ে পৌঁছাবে যা প্রায় অসীম। আর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণেই মানুষ মারা যাবে। তারা ২ হাজার বছরের জনমিতি বা ডেমোগ্রাফিকসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই দাবিটি করেন। তাদের এই দাবি ষাটের দশকে আলোচনার জন্ম তো দিয়েছিলই, সঙ্গে জিনগত, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়েও এই তত্ত্ব উঠে এসেছিল।

এই দাবি টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমসে শিরোনাম হয়েছিল। এমনকি পোগো কমিক স্ট্রিপেও এর ছাপ পড়ে। সায়েন্সের চিঠিপত্রের পাতায় গণিতবিদ ও জনসংখ্যাবিদেরা এর কড়া সমালোচনা করেন। তবু লেখকেরা নিজেদের হিসাবে অটল থাকেন।

এরপর তাদের পূর্বাভাস অদ্ভুতভাবে মিলে যেতে থাকে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে এই সমীকরণ বেশির ভাগ জনসংখ্যাবিদের হিসাবের চেয়ে ভালো ফল দেয়। এটি পাঠ্যবইয়ে জায়গা পায়। ১৯৬৩ সালে কানাডার সংসদীয় কমিটিতেও এর উল্লেখ হয়। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে এক গর্ভপাত মামলাতেও এটি উঠে আসে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ কথা জানিয়েছে।

তবে ১৯৯৩ সালের দিকে পূর্বাভাসটি ভুল হতে শুরু করে। তখন থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ওই রেখার পেছনে পড়তে থাকে। গবেষণাপত্রে বিশ্বকে জন্মহার অর্ধেকে নামানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। আজ বিশ্বের জন্মহার ১৯৬০ সালের অর্ধেকের চেয়ে সামান্য কম।

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্ন এই তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি জন্মহার কমে যাওয়ার এই হারকে তুলে ধরে দেখিয়েছেন, এই তত্ত্বটি সঠিকভাবে বিষয়টাকে তুলে ধরতে পারেনি। যে কারণে ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবিটিও ভুল ও ভিত্তিহীন।

ষাটের দশক অবশ্য এমন তত্ত্বের জন্য বিখ্যাতই ছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী ও ইউএফও গবেষক চ্যান থমাস তার ‘দ্য অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ স্টোরি’ বইতে দাবি করেন এমন কিছুর। তার দাবির ভিত্তি অবশ্য ছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয়। তার দাবি ছিল, প্রতি ৬০০০ বছর পরপর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আসে। সেটা এবার হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। 

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সেই বই বহু বছর গোপন রেখেছিল। ২০১৩ সালে সে নথি অবমুক্ত করে দেওয়া হয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে কমতে পারে মস্তিষ্কের বার্ধক্য, বলছে গবেষণা

নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে কমতে পারে মস্তিষ্কের বার্ধক্য, বলছে গবেষণা

অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ৫৯ শতাংশ মানুষ, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ৫৯ শতাংশ মানুষ, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভিটামিন সি কি রক্তের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে? গবেষণায় নতুন তথ্য

ভিটামিন সি কি রক্তের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে? গবেষণায় নতুন তথ্য

গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

কম বয়সে স্মার্টফোন ব্যাবহার শিশুদের খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বাড়ায়: গবেষণা

কম বয়সে স্মার্টফোন ব্যাবহার শিশুদের খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বাড়ায়: গবেষণা

সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ব্রাজিলের নির্বাচনকে ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প

ব্রাজিলের নির্বাচনকে ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প

কেপি প্রদেশে ভারত-সমর্থিত ৩ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত: পাকিস্তান

কেপি প্রদেশে ভারত-সমর্থিত ৩ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত: পাকিস্তান

দলে ফিরতে বিদ্রোহী এমপিদের ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

দলে ফিরতে বিদ্রোহী এমপিদের ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম