জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।
আইন না মেনে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিল করে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা।
মামলায় নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নতুন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ছয় নম্বর ফরমে পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।
আদালত স্পষ্ট করেছে, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সর্বসম্মতি না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধান এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা আদালত খতিয়ে দেখতে চায়।
এ মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি এবং ছয় নম্বর ফরমে পরিবর্তনের বিষয়ে গত প্রায় ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
অভিযোগ আরও রয়েছে, নতুন ভোটারদের ছয় নম্বর ফরমে পূর্বপুরুষদের তথ্য চাওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অন্য কমিশনারদের মতামত ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো চূড়ান্ত বা অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবাদ প্রতিবেদন আংশিক অথবা সম্পূর্ণ সত্য হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আগে জানা প্রয়োজন।
শুনানিতে আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, অনলাইনে সংশোধিত ছয় নম্বর ফরম চালু করার অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা সংশ্লিষ্ট সব নথি আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। কার সিদ্ধান্তে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ফরম ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এসব নথি চাওয়া হয়েছে।
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন সরাসরি গ্রহণ করেনি।
আদালতের এই অবস্থানের ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আপাতত কার্যকর হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে নির্বাচন কমিশনকে আদালতের নোটিশের জবাব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর থাকবে।

-6ac3688a04ffd.jpg)