নিউমোনিক প্লেগ কী, কতটা ভয়ংকর এই রোগ?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক গবেষকের অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিউমোনিক প্লেগ। প্লেগের এই ধরনকে রোগটির সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এ রোগের ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে।
নিউমোনিক প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়া তৈরি করতে পারে। প্লেগের সবচেয়ে পরিচিত ধরন বুবোনিক প্লেগ, যা সাধারণত আক্রান্ত মাছির কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আর সেপ্টিসেমিক প্লেগে ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
যেভাবে ছড়ায়
প্লেগের অন্যান্য ধরনের তুলনায় নিউমোনিক প্লেগের বিশেষ ঝুঁকি হলো এটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বের হওয়া শ্বাসতন্ত্রের কণা অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর নিঃসরণ থেকেও এ রোগ ছড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ থেকে মানুষে নিউমোনিক প্লেগ ছড়ানোর সর্বশেষ নথিভুক্ত ঘটনা ঘটে ১৯২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে।
দ্রুত দেখা দিতে পারে উপসর্গ
নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট। ফুসফুসে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে গেলে রোগীর শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ
তবে সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিউমোনিক প্লেগের চিকিৎসা সম্ভব। চিকিৎসায় সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন, জেন্টামাইসিন ও স্ট্রেপ্টোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনে অক্সিজেন, তরল ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কতটা?
রাশিয়ার গবেষণাগারে এক গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম।
তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, শরীরের তরল থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণে রাখতে পারে। প্রয়োজন হলে তাদের অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।
চতুর্দশ শতকের ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারিতে ইউরোপে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে বর্তমানে প্লেগ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও রোগটির ব্যাকটেরিয়া এখনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান।


