আদালতের নির্দেশের পরও অচল দিল্লির গণপরিবহন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের কারণে বিপর্যস্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও স্বাভাবিক হয়নি মেট্রো ও ট্রেন চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে বিমানপথ বেছে নিতে গিয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। এদিকে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনও জমা পড়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
যন্তর মন্তরে আয়োজিত ওই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে যাতায়াতকারী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর গণপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াকে অতিরিক্ত ও কঠোর পদক্ষেপ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম আলেকজান্ডার বেবিসহ অন্য আবেদনকারীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়া যাবে না। তবে আদালতের নির্দেশের পরও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আদালত অবমাননার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহন সংকটের প্রভাব পড়েছে বিমানযাত্রায়ও। শেষ মুহূর্তে টিকিট কিনতে গিয়ে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ভ্রমণশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বারাণসী থেকে দিল্লিগামী একমুখী বিমান টিকিটের ভাড়া বেড়ে ৬ হাজার ২০০ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে। শুক্রবার অমৃতসর থেকে দিল্লির সাধারণত প্রায় ৪ হাজার টাকার টিকিটের দাম বেড়ে প্রায় ৮ হাজার টাকায় পৌঁছায়।
লুধিয়ানা থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটের ভাড়াতেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। শনিবার দিনের বেলায় একটি টিকিটের দাম বেড়ে ১২ হাজার ৯৮৭ টাকায় উঠলেও রাত ৮টার মধ্যে তা কমে ৪ হাজার ৩০১ টাকায় নেমে আসে।
পরিবহন সংকটের কারণে শুধু যাত্রীরাই নন, ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমান সংস্থার কর্মী ও বিমানবন্দরের জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও। সড়কে যানজট এবং বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় তাদের সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মীরা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারলে ফ্লাইট পরিচালনাতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ভ্রমণশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, রেল ও সড়ক যোগাযোগে দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্ন চলতে থাকলে দিল্লিগামী বিমানের চাহিদা আরও বাড়বে। এতে বিভিন্ন রুটে বিমানভাড়া বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুম শুরুর আগে এ পরিস্থিতি যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কতটা ব্যাহত করা যায়, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

